April 20, 2026, 5:02 am

লাইভ করতে নাকি ওসির অনুমতি লাগবে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন নিয়ে লাইভ করার সময় মাই টিভির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুনের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী। ঘটনাস্থলে থেকে বদর থানার ওসিকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমাকে না জানিয়ে আপনি ওখানে গেছেন কেনো? কি বিষয় নিয়ে লাইভ করবেন আমাকে কেনো জানালেন না? এরকম নানান প্রশ্ন করে বিব্রত করতে থাকে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। তাকে ফোন আরো বিপদে পড়তে হয়েছে তাদেরকে।
পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
দুজনকে ফোন দিলে তারা ওসি বন্দর আবু বকর সিদ্দিককে ফোন দেয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এতোক্ষণে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়।
জানা গেছে, আজ দুপুরে অফিসের নির্দেশ মতে নারায়ণগঞ্জে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন নিয়ে লাইভ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনা মোতাবেক বন্দর থানাধীন নবীগঞ্জ রেললাইন এলাকায়য লাইভ করতে গেলে সেখানে
আগে থেকে ওতপেতে থাকা সন্ত্রাসী রাজু, আসিফ , সাজেন, আসিফ সহ আরও ৬-৭ জন মাই টিভির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিকে লাইভ না করে গাড়ি নিয়ে নবীগঞ্জ থেকে সরে যেতে বলে। কেনো সরে
যেতে হবে জানতে চাইলে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুনের উপর অতর্কিত হামলা চালায় তারা। এসময় বন্দর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিককে ফোন দিলে তিনি সহযোগিতা না করে উল্টো নানান প্রশ্ন করে ওই সাংবাদিককে।
প্রতক্ষদরশীরা জানায়, মাই টিভি রিপোর্টার নবীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় লাইভ করার জন্য আসছিলো। তার সাথে রাজু সহ বেশকজন গায়ে পড়ে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং মারধর করে।
পড়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ওসির গাফিলতির কারণে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে এ নিয়ে অফিসের নির্দেশ মোতাবেক লাইভ করার জন্য নবীগঞ্জ রেললাইন গেলে পূর্বে থেকে ওতপেতে থাকা এক চেয়ারম্যান ও তানজিল বাহিনীর সদস্যরা অর্থাৎ রাজু, আসিফ, সাজেম ও আসিফ সহ ৬-৭ জনের একটি বাহিনী হামলা চালায়। এ ঘটনায় স্পটে দাঁড়িয়ে ওসি বন্দর আবু বকর সিদ্দিককে সহযোগিতা চেয়ে ফোন দিলে সে কোনো সহযোগিতা না করে উল্টো কেনো লাইভ করতে কেনো গেছেন প্রশ্ন করে ওসি। এরপর বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান আমাকে ডেকে নিয়ে আসি ওয়াস করলো। আমি ওসি সহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান , শুনেছি এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে। তবে এটা আপোষও হয়েছে। তবে আমি তাকে লাইভ করার বিষয়ে কোনো কথা বলিনি। বলেছি আমাকে জানালে ফোর্স সাথে দিতাম।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) চাইলাউ মারমা জানান, বিষয়টি আমি দেখব।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জানান, আমি ওসির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা